অনতি আমার ভালবাসা

profile Md Hafizur Rahman , 2020 April 12

বিয়ে করেছি সাত দিন বউকে রেখে রুম থেকে বেরুতে মন চায় না, ইচ্ছা করে সারাদিন রাত বউয়ের সঙ্গে গল্প করি। কিন্তু আমার দুই কাজিন আর ছোট বোনের সহ্য হচ্ছেনা, তাদের অভিযোগ আমি অন্তিকে তাদের কাছে যেতে দিচ্ছি না। কাজিন সাইনির কথা হলো, আচ্ছা ভাইয়া বিয়ে কি তুই একাই করেছিস, তোর আগে দুনিয়াতে আর কেউ বিয়ে করেনি, ভাবীকে আমাদের কাছে আসতে দেস না, যতদিন ধরে বিয়ে করছিস বউয়ের সাথে আঠার মত লেগে আছিস। গোসল করতে রুম থেকে বের হয়েছিলাম, সেই সুযোগে ডাইনি কাজিন আমাকে এতগুলো কথা শুনাইলো। আমি তারাতাড়ি রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলাম, আমার মুখের অবস্থা দেখে অন্তি হেসে শেষ, অন্তির হাসি দেখে বললাম হাসছো কেন। তোমাকে লজ্জায় কাচুমাচু হয়ে রুমে ঢুকতে দেখে খুব মজা পেলাম, সাইনি তো ঠিকই বলছে, তুমি আমাকে আঠার মত ধরে রাখছো ননদদের সময় দিতে পারছি না তোমার জন্য। আচ্ছা আমি আঠা ঠিক আছে এই যে তোমার গায়ে লেগে পড়লাম, বলেই অন্তিকে জড়িয়ে ধরে বিছানায় শুয়ে পড়ছি, অন্তি আমার বুকের উপর। কিছুক্ষণ পর ছোট বোন জান্নাত দরজায় এসে নক করছে, ভাইয়া আম্মু আব্বু নাস্তার টেবিলে বসে অপেক্ষা করছে ভাবীকে নিয়ে এখনি আসো, না হয় আব্বু রাগ করবে। আব্বু রাগ করবে শুনে তড়িঘড়ি অন্তিকে ছেড়ে দিলাম, বললাম ভালো করে শাড়ী ঠিকঠাক করে নাও, চুল গুলো ঠিক কর জলদি। আমি আগে বের হয়ে আসলাম রুম থেকে, কিছুক্ষণ পর অন্তি বের হলো। নাস্তা করছি চুপচাপ কারো কোনো কথা নেই, আরেক কাজিন নুসাইবা বলল, শুধু বাসায় বসে থাকবি ভাইয়া ভাবীকে নিয়ে বাহির থেকে ঘুরে আয়, বেচারি ভাবীর সারাদিন রাত রুমে থেকে মনে হয় দম বন্ধ হয়ে যাবে। শয়তান মেয়ে আম্মু আব্বুর সামনে আমাকে লজ্জা দেবার জন্যে এমন কথা বলল। নুসাইবার কথা শুনে আব্বু বললেন, হাসিব তুমি বউমাকে নিয়ে কোথাও ঘুরে আসো,নুসাইবা ঠিক বলেছে, সারাদিন বাসায় বসে থাকতে কার ভালো লাগে। আমি নাস্তা শেষ করে রুমে আসলাম, অন্তি আসতেই বললাম রেডি হও ঘুরতে বের হবো, অন্তিকে নিয়ে বের হলাম, আমি না কি সারাদিন বউয়ের সাথে লেগে থাকি বাহিয়ে বের হইনা আজ সারাদিন ঘুরবো। অন্তি বলল, চল না গো জান বাসায় চলে যাই, অনেক হয়েছে ঘুরাঘুরি, খুব ক্ষিদে লাগছে বাসায় গিয়ে খাবো। না ময়না বাসায় যাবো না, আমি না কি তোমাকে নিয়ে রুমে পড়ে থাকি সারাদিন এখন থেকে প্রতিদিন বাহিরে ঘুরবো, ক্ষিদে লাগছে রেস্টুরেন্টে খাবো। খাওয়া শেষ করে উঠতে যাবো, আচমকা একজন মেয়ে এসে, হাসিব তুমি আমার এই সর্বনাশ করলে, পাঁচ পাঁচটা বছর আমার সাথে প্রেম করে বিয়ে করলে অন্যজনকে, ছিঃ তুমি এতো খারাপ আমার জানা ছিল না, তোমাকে বিশ্বাস করে সবকিছু দিয়ে দিলাম, আর তুমি আমার সাথে প্রতারণা করলে বিশ্বাস করার মুল্য এটা। মেয়েটা একদমে কথা গুলো বলে চলে গেলো, আমি নির্বাক হয়ে গেলাম মেয়েটার মিথ্যা কথা শুনে। অন্তি তো কেঁদে চোখ লাল করে ফেলছে, আমি তাকে বুঝাতে চাইছি আমি মেয়েটাকে চিনি না, অন্তি আমার কথা বিশ্বাস করছে না, সে আমাকে রেখেই বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো আমিও তার পিছু পিছু বাসায় আসলাম। রাতে ডিনারের পর অন্তি তার বালিশ নিয়ে বোনদের রুমে চলে গেলো। আমি জানতে চাইলাম কই যাও, আজ থেকে বোনদের রুমে থাকবো, তোমার সাথে থাকবো না, বিয়ের আগে যে অন্য মেয়ের সাথে সবকিছু করছে, এখন গিয়ে তাকেই আদর কর। আজ দুইদিন অন্তি আমার আশেপাশে আসেনা সারাদিন বোনদের সাথে হাসি খুশি সময় পার করছে, এইদিকে আমি জ্বলেপুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছি। আমার দুঃখ আমার বউ বুঝতে পারছে না, সদ্য বিয়ে করা বউ রেখে একা ঘুমানো কি কষ্ট সেটা কেউ বুঝবে না, আমার মত যে ভুক্তভোগী সে উপলব্ধি করতে পারবে। চারদিন হয়ে গেলো আর সহ্য করতে না পেয়ে সাইনিকে বললাম, বোন আমার, তোর ভাবীকে একটু বুঝিয়ে আমার রুমে পাঠিয়ে দে, তোদের তিন বোনকে নিউ ড্রেস কিনে দেবো। সাইনি হেসে বলে, ভাইয়া বউ ছাড়া থাকতে খুব কষ্ট তাইনা, এখন কেমন লাগে দেখো, এতদিন তো ভাবীকে আমাদের কাছে ঘেষতে দিতে না। বোনেরা আমাকে হেল্প করল না, কি করব, আহা কি কষ্ট। পরেরদিন শ্বশুর আসল, অন্তিকে নিতে যেতে সাথে আমাকে যেতে হবে, আমি মনে মনে খুশি হলাম, শ্বশুর বাড়ি যেয়ে তো অন্তি রাতে আমার সাথেই থাকবে। হায়রে কপাল শ্বশুর বাড়ি গিয়ে আমার স্বাদ পূরণ হলো না অন্তি তার মায়ের রুমে ঘুমালো, আমাকে থাকতে দিলো, অন্তির বড় ভাইয়ের সঙ্গে, মনের কষ্ট মনে নিয়ে ঘুমালাম। মাঝরাতে অনুভব করলাম অন্তি আমাকে জড়িয়ে ধরছে, আমিও তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম। আরে জামাই করছ কি তুমি আমাকে এভাবে জড়িয়ে ধরে রাখছো কেন, তোমার কি ছেলেদের প্রতি নেশা আছে। বড় ভাইয়ের মুখ থেকে এমন লজ্জাজনক উক্তি শুনে ইচ্ছা করছে মাটির নিচে চলে যেতে। কোনো রকম সকালের নাশতা করে বাসায় চলে আসলাম। বাসায় এসে দেখি বোনদের রুম থেকে হাসির শব্দ শুনে থমকে দাঁড়ালাম। দেখ ভাইয়াকে কেমন শাস্তি দিলাম, বউকে আঠার মত ধরে থাকে, আর এখন তার বউ সারাদিন আমাদের সাথে থাকে। সাইনি আর নুসাইবার কথা শুনে আমার ছোট বোন জান্নাত বলছে, দেখ অনেক কষ্ট দিয়েছিস ভাইয়াকে এখন ভাবীকে সব বলে দে। আমি খুব রেগে তাদের সামনে যেতেই দেখি রেস্টুরেন্টের সেই মেয়ে, মেয়েটা নুসাইবার ফ্রেন্ড সবাই মিলে প্ল্যান করে আমাকে কষ্ট দিলো, আমি নুসাইবা আর সাইনির কানে ধরে দিলাম টান, ভাইয়া ছেড়ে দে, এখনি ভাবীকে সব বলে দেই, ভিডিও কলে অন্তিকে সবকিছু বলল, ওই মেয়ে অন্তিকে বলল, সবকিছু প্ল্যান মাফিক করছে সে। কিছুক্ষণ পর অন্তি আমাকে কল দিয়ে কি কান্নাকাটি, বারবার ক্ষমা চাচ্ছে আমি লাইন কেটে দিলাম। সন্ধ্যায় অন্তি এসে হাজির, আমি তার সাথে কথা বললাম না, এতদিন আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে আমার একটা কথাও সে বিশ্বাস করেনি। রাতে আমি তাকে রুমের বাহিরে রেখে দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়লাম, কিন্তু ঘুম আসছে না মন পড়ে আছে অন্তির কাছে। আম্মু ডাকছে আমাকে, হাসিব তুই কি ঘুমিয়ে গিয়েছিস, তোর সাথে কথা আছে দরজা খুলে দে। দরজা খুলে দিলাম অন্তি বালিশ নিয়ে রুমে ঢুকে পড়ল, আম্মু চলে গেলো, আম্মু আমাকে বোকা বানিয়ে অন্তিকে রেখে গেলো। আমি পাশ ফিরে শুয়ে পড়লাম, অন্তি আমার উপর ঝাপিয়ে পড়লো, শুরু হয়ে গেলো যুদ্ধ।

4 Comments , 5134 Views



Anam Ashik , 2020 May 12

Wow!

Mehraj Rakib Khan , 2020 April 12

good

Mehraj Rakib Khan , 2020 April 12

nice

Mehraj Rakib Khan , 2020 April 12

nice